ঢাকা , সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬ , ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​‎ঢাবি শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন'র ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার সহযোগী অধ্যাপক নবীগঞ্জের সুদীপ চক্রবর্তী গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৪-২৭ ১৪:০৯:৪৩
​‎ঢাবি শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন'র ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার সহযোগী অধ্যাপক নবীগঞ্জের সুদীপ চক্রবর্তী গ্রেপ্তার ​‎ঢাবি শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন'র ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার সহযোগী অধ্যাপক নবীগঞ্জের সুদীপ চক্রবর্তী গ্রেপ্তার

‎স্বপন রবি দাশ,হবিগঞ্জ  প্রতিনিধি ॥ 

‎ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী মুনিরা মাহজাবিন মিমো (২৬)-এর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সুদীপ চক্রবর্তী নবীগঞ্জ পৌরসভার শিবপাশা গ্রামের বাসিন্দা। গতকাল রোববার সকাল আটটার দিকে রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় নিজ বাসা থেকে মিমোর মরদেহ উদ্ধার করে বাড্ডা থানা পুলিশ। ঘটনার পরপরই সুদীপ চক্রবর্তীকে হেফাজতে নেওয়া হয়।

‎ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বাড্ডা জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) আসাদুজ্জামান জানান, বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে মিমোর বাবা বাড্ডা থানায় সুদীপ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় সুদীপকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। একই ঘটনায় মিমোর সহপাঠী উম্মে হানিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হলেও পরে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। 

‎পুলিশ জানায়, ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মিমোর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা গেছে, মিমো সাধারণত দরজা খোলা রেখে ঘুমাতেন। তবে ফজরের আজানের পর দরজা বন্ধ দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান তারা। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার আগের রাতে প্রায় একটার দিকে সুদীপ চক্রবর্তীর সঙ্গে ছয় মিনিট কথা বলেন মিমো। অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে কল হিস্ট্রি মুছে ফেলেন সুদীপ।

‎মিমোর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিভাগের চেয়ারপারসন কাজী তামান্না হক। এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, "এমন মৃত্যু আমরা কেউ মেনে নিতে পারছি না। বিভাগের সবাই শোকে আচ্ছন্ন। আমরা চাই সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হোক।”

‎শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দাবি, মিমো একটি চিরকুট রেখে গেছেন, যেখানে সুদীপ চক্রবর্তী ও উম্মে হানির নাম উল্লেখ রয়েছে। চিরকুটে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা এবং কিছু উপহার ফেরত দেওয়ার কথাও লেখা ছিল বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। নবীগঞ্জ এলাকার স্থানীয়দের একাংশ দাবি করেছেন, "আমাদের দাবি, অভিযোগ সত্য প্রমাণিত না হলে কোনোভাবেই যেন হয়রানি না করা হয়। আমরা বিশ্বাস করি, সুদীপ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নাও থাকতে পারেন।"

‎নাট্যকর্মী হিসেবে পরিচিত মিমোর মৃত্যুতে নাট্যাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নাট্যকর্মী মহসিনা আক্তার সামাজিক মাধ্যমে শোক প্রকাশ করে লিখেছেন, "আহারে মিমো।"

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ